Posts

Showing posts with the label Bangla

সেলফ পোর্ট্রেট

Image
গত বছর উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরের খুব পরিচিত একজন দ্বীনি ভাই দুনিয়া থেকে চলে গেলেন। উনার জানাজায় অংশ নিতে গেলাম। জানাজার পূর্বে উনার ব্যাপারে কিছু বলার জন্য ডাকা হলো তার মসজিদের দীর্ঘ দিনের একজন সঙ্গীকে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মরহুম ভদ্রলোকের ব্যাপারে সে কয়েকটা পয়েন্ট তুলে ধরলো -  ১. তিনি সব সময় গরিব মানুষদের খোঁজ খবর নিতেন, তাদের সাহায্য করতেন। বিশেষ করে পথের খেটে খাওয়া মানুষদের ভালো কথা বলা, দ্বীনের কথা শোনানোর ব্যাপারে খুব চেষ্টা করতেন।  ২. কখনও অভিযোগ করতেন না। সব সময় হাসিখুশি থাকতেন। তীব্র অসুস্থতার মধ্যেও আল্লাহ'র শুকরিয়া করতেন।  ইন্তেকাল করা এই ভাইয়ের আরও অনেক পরিচয় ছিল। ক্যারিয়ারের  দিক থেকেও তিনি ছিলেন খুবিই সফল একজন মানুষ। কিন্তু তার সাথে দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা করা একজন ভাইয়ের দৃষ্টিতে এগুলোই তার বিশেষ বৈশিষ্ট। তার কথা মনে করলে যে চিত্রটা ফুটে উঠে, তার ভাই সেই চিত্রটাই বর্ণনা করেছে। ___________________________ সপ্তাখানেক আগে মারা গেলেন আমাদের ১৪ নম্বর সেক্টর মসজিদের অতি পরিচিত নজরুল ইসলাম  চাচা। তাবলীগের কাজের কারণে বেশ কাছ থেকে দেখেছি চাচাকে। ...

আহা ঈদ!

বিশ্বের যুদ্ধবিদ্ধস্ত এলাকাগুলোর মানুষদের চিত্র আমাদের সামনে প্রায় প্রায় উঠে আসে মনিটরের পর্দায়। কি করুণ মানবেতর জীবন। প্রতি বছর ঈদের সময় এসব এলাকার ঈদের খবরও মিডিয়ায় আসে। আমরা ২ সেকেন্ডের জন্য আফসোস করি, ' আহারে! এদের এই ঈদও কি ঈদ?' দীর্ঘস্বাসটা বেরিয়ে যেতে না যেতেই ফিরে যাই নিজেদের উদযাপনে। কখনো কল্পনাতেও আসে না, এমন কোনো ঈদ আমাদের জীবনে আসতে পারে। না, যুদ্ধ দেখতে হচ্ছে না। ওরকম বিভীষিকার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে না আমাদের। তবে যা দেখতে হচ্ছে, তাও কি কখনও দেখতে হবে বলে ভেবেছি? এই আজকেই, পৃথিবীর সুপার পাওয়ার আমেরিকায় সব মিলিয়ে মৃত্যু ১ লাখ ছাড়িয়ে গেলো! আমাদের দেশে প্রতিদিন গোটা বিশেক মৃত্যুর খবর পাচ্ছি 'অফিসিয়াল' হিসাবে। প্রিয় চাচা চাচী ফুপুরা রমজান মাসে কয়েকবার করে আসতো একগাদা ইফতার বানিয়ে, এবার কোনো আসা যাওয়া নেই। সবগুলো পরিবার যেন নিজেদের বাসায় বসে বসে পঁচে যাচ্ছে। আমেরিকার করোনা পরিস্থিতির একেবারে এপিসেন্টার নিউ ইউর্কে বেশ কয়েকটা প্রিয় মানুষ প্রতিদিন কাটাচ্ছে অবরুদ্ধ আতঙ্কে। আগে শুনতাম অমুক দেশে করোনা। তারপর শুরু হলো নিজের দেশে, অমুক জেলায়, ওই এলাকায়। তখনো ...

একটু সময়

Image
আজকাল আমরা আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা সেকেন্ড কোনো না কোনো ভাবে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখি। যেন ব্যস্ত না থাকাটা একটা অন্যায়, একটা অপরাধ! Productivity আর Hustle culture এর এই যুগে, আমাদের জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড থেকে output বের করার একটা নেশা চেপে গেছে। কাজের ফাঁকেও যে মাথাটা, মনটা কিছুটা রেস্ট নিবে, সে সুযোগও নেই। স্মার্টফোনটা তুলে নিয়ে স্ক্রল করেই যাচ্ছি অনবরত।  দিনের একটু সময়, অল্প কিছু মুহূর্ত কি এমন রাখতে পারিনা, যে সময়ে ব্রেইনটাকে একটু বিশ্রাম দিব। ঘুরে বেড়াতে দিব তাকে নিজের মতো?  এর জন্য একটা ভালো উপায় হলো হাটতে বের হয়ে যাওয়া। হাটতে হাটতে ফোনে কথা না, অফিসের কিছু পেন্ডিং কল করা না। জাস্ট হাটা। অথবা বারান্দায় বা ছাদে কিছু সময় বসে থাকা। আকাশ দেখা, গাছ, পাখি দেখা। মনকে ওর নিজের মতো একটু থাকতে দেয়া, কোনো কাজ না দেয়া।  আগে নিয়মিত হাটা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে হাটাহাটি করি না। তাই কিছু সময় কাটাই প্রতিদিন বিকেলে আমার ছাদে। কিচ্ছুক্ষন বসে চুপচাপ মেডিটেশন, তারপর একটু হাটাহাটি, আলো বাতাস খাওয়া।  আর প্রায়ই  চোখে পড়ে এমন কিছু সৌন্দর্য্য, যা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত...

বৃষ্টির জলে ভেসে বেড়াই

Image
[লেখাটা বৃষ্টি নিয়ে, তাই ব্যাকগ্রাউন্ডে বৃষ্টির সুর থাকলে মনে হয়ে মন্দ হয় না, কি বলেন?  তাহলে হেডফোন লাগিয়ে ,পাশের প্লে বাটনে ক্লিক করুন ! সাথে এক চা হলে আরও ভালো ] এশার নামাজে যাওয়ার সময় বৃষ্টি ছিল না। বৃষ্টির লক্ষণ ছিল, তবে লক্ষ্য করার সময় ছিল না। নামাজের মধ্যেই ঝিরঝির শব্দ পেলাম। বুঝলাম, আজ বাসায় ফিরতে দেরি হতে পারে।  আয় বৃষ্টি ঝেপে... নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের মুসল্লিদের বড় অংশের মধ্যেই প্রচন্ড একটা তাড়া থাকে। কবি আমাদের অন্তরের কথা জানতে পারলে হয়তো লিখতেন, অস্থিরতা বৃদ্ধি পাইতেছে, অন্তর জ্বলিয়া যাইতেছে, মসজিদের ভেতর যে আটকা, সে কি করিয়া শান্ত হইতে পারে .... As expected, নামাজ শেষে মসজিদের গেটের কাছে এসে দেখি অনেক অস্থির মুসল্লিদের ভিড়, বেরোতে পারছে না। বাইরে ঝুম বৃষ্টি। আটকে পড়া ভাইয়েরা অসহায় দৃষ্টিতে বৃষ্টি দেখছে। গেটের সামনে দোতলায় উঠার প্রশস্ত সিঁড়ি। আমি কয়েক ধাপ উপরে উঠে বসে পড়লাম, ঠিক স্টেডিয়াম বা সিনেপ্লেক্সের গ্যালারিতে বসার মতো। কারণ বৃষ্টি আমার কাছে একটা enjoyable জিনিস, একটা Source of entertainment । তবে রাতের বেলায় ...

চশমাটা খসে গেলে....

Image
চশমা পড়ি সেই ছোট্ট বেলা থেকে। একেবারে ছোট বয়স থেকেই আমার চোখের সামনে দুটো কাচের টুকরো থাকে সবসময়, অন্তত জাগা অবস্থায়। ৫-৬ বছর বয়সে আমার সেই প্রথম চশমা-পড়া চেহারার বেশ কিছু ছবি আছে এখনো। আমি নাকি সেই চশমা আবার একটু পরপর নাক লম্বা করে, ভ্রূ উঁচু করে এডজাস্ট করতাম। সেটা নিয়ে এখনো প্রায়ই হাসাহাসি হয় বাসায়। সেই চশমাটা এখনো আছে আমার ড্রয়ারে। গোছাতে গিয়ে যখন মাঝে মাঝে হাতে আসে ওটা, কিছুক্ষনের জন্য থেমে যেতেই হয়, হাসি পায়।  সেই যে চশমা ঝুললো চোখে...... চোখের পাওয়ার কমতে কমতে, আর চশমার পাওয়ার আর দাম বাড়তে বাড়তে এখন যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা রীতিমতো দুঃখজনক। বিশেষ করে বাম চোখটার অবস্থা এতই খারাপ যে এটা লেজার ট্রিটমেন্টের অযোগ্য বলে দিয়েছেন এক ডাক্তার। তবে সবসময় চশমা হাতের কাছে থাকে বলে, এটার অভাব বা আমার শোচনীয়তার পরিমানটা টের পাইনা খুব একটা। তবে যখন টের পাই, বেশ অসহায় লাগে। এরকম একটা এক্সপেরিয়েন্স হয়েছিল সুন্দরবনে। সেটা ছিল আমাদের আহসানুল্লাহর ব্যাচের ফেয়ারওয়েল ট্রিপ, একশো জনের উপর ছাত্র ছাত্রী নিয়ে। প্রচন্ড exciting সেই ট্রিপ এর কাহিনী লিখেছিলাম আগে একবার। তো সেবার কটকা ব...

নূরের শহরে (১) - প্রথম নিঃশাস

Image
কয়েক ঘণ্টা তো হয়ে গেল প্লেন ছেড়েছে। কোন শহরের উপরে এখন আমরা? গন্তব্যের দেশটার সীমানা ভেদ করেছি, সেটা জানি, আর গন্তব্য শহরের বেশ কাছাকাছিই আছি, সেটাও বলে দিচ্ছে আমার সামনের স্ক্রীনের লাইভ ম্যাপ। এয়ার ট্র্যাভেলে এই চ্যানেলটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।   একটু পর পর তাকাচ্ছি আমার পাশের জানালা দিয়ে। নাহ, নিচে এখনও ঘোর অন্ধকার। আসেনি এখনও সেই শহর...   কিছুক্ষণ পর, বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ল আলো, কালোর মাঝে অসংখ্য বৈদ্যুতিক আলো। সামনের ডিসপ্লেতে চোখ বুলালাম। এই তো! অপেক্ষার পালা শেষ। আমার নিচেই এখন সেই নূরের শহর, আমার স্বপ্নের শহর, শান্তির শহর......   এই শহর যখন প্রথম চোখে পড়বে, তখন পড়বার জন্য বিশেষ একটি দুআই আছে! অনেকক্ষণ ধরে প্র্যাকটিসও করে রেখেছি। জানালায় মাথা ঠেকিয়ে, চোখ বড় করে তাকিয়ে পড়তে শুরু করলাম...... ও আল্লাহ ! এইতো তোমার নবীর শহর ! একে আমার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার, শাস্তি আর খারাপ হিসাব থেকে নিরাপত্তার মাধ্যম বানিয়ে দাও ! (ভাবার্থ) কি আশ্চর্য দুআ! আমাদের ঈমান, আমল, তওবা, কান্নাকাটি, সব তো জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্যে। দুনিয়ার জীবনের সফলতা...

লালাখালে এক একলা পথিক

Image
সিলেটে এই নিয়ে ৪র্থ বার আসা , আর প্রতিটা সফরই রীতিমত unique! প্রথমবার , সেই কত বছর আগে ! সেবারই প্রথম ট্যুর এর মজা ' র স্বাদ পেয়েছিলাম । মজাটা আরও অনেক বেশি হয়েছিল কারণ ফ্যামিলির আমরা ৫ জন ছাড়াও সেবার সাথে ছিল আমাদের প্রিয় দাদি , আরও ছিল আমার cousin লাকি আপু । সেই ট্রিপের খুব বেশি কিছু মনে না থাকলেও , সেই ট্রেন এর যাত্রাটা খুব মনে পরে । আরেকটা দৃশ্য ভেসে ওঠে ঝাপসাভাবে । পাহাড়ের উপরে , সবুজের মাঝখানে একটা বাংলো , চারপাশের ঘাসে ঢাকা চত্বরটা ফুলের গাছে ঘেরা । কিনারে গিয়ে ফুলের ঝোপ দুই হাতে সরাতেই ... ।। সুবহানাল্লাহ ! নিচে বহদুর পর্যন্ত ঢেউ খেলে নেমে গেছে চা - পাতায় ঢাকা এক সাগর ! এরকম দৃশ্য সেই প্রথম । ঘুরে বেরানোর প্রতি আমার constant আকর্ষণটা মনে হয় তখন থেকেই শুরু ।