Thursday, March 16, 2017

বৃষ্টির জলে ভেসে বেড়াই

[লেখাটা বৃষ্টি নিয়ে, তাই ব্যাকগ্রাউন্ডে বৃষ্টির সুর থাকলে মনে হয়ে মন্দ হয় না, কি বলেন? 
তাহলে হেডফোন লাগিয়ে ,পাশের প্লে বাটনে ক্লিক করুন ! সাথে এক চা হলে আরও ভালো ]



এশার নামাজে যাওয়ার সময় বৃষ্টি ছিল না। বৃষ্টির লক্ষণ ছিল, তবে লক্ষ্য করার সময় ছিল না। নামাজের মধ্যেই ঝিরঝির শব্দ পেলাম। বুঝলাম, আজ বাসায় ফিরতে দেরি হতে পারে। 


আয় বৃষ্টি ঝেপে...

নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের মুসল্লিদের বড় অংশের মধ্যেই প্রচন্ড একটা তাড়া থাকে। কবি আমাদের অন্তরের কথা জানতে পারলে হয়তো লিখতেন,

অস্থিরতা বৃদ্ধি পাইতেছে, অন্তর জ্বলিয়া যাইতেছে,
মসজিদের ভেতর যে আটকা, সে কি করিয়া শান্ত হইতে পারে ....


As expected, নামাজ শেষে মসজিদের গেটের কাছে এসে দেখি অনেক অস্থির মুসল্লিদের ভিড়, বেরোতে পারছে না। বাইরে ঝুম বৃষ্টি। আটকে পড়া ভাইয়েরা অসহায় দৃষ্টিতে বৃষ্টি দেখছে। গেটের সামনে দোতলায় উঠার প্রশস্ত সিঁড়ি। আমি কয়েক ধাপ উপরে উঠে বসে পড়লাম, ঠিক স্টেডিয়াম বা সিনেপ্লেক্সের গ্যালারিতে বসার মতো। কারণ বৃষ্টি আমার কাছে একটা enjoyable জিনিস, একটা Source of entertainment । তবে রাতের বেলায় বৃষ্টি দেখা যায়না। গাড়ির আলোর সামনে কেবল বৃষ্টির ধারাটা দেখা যায়, ল্যাম্পপোস্টের বাতিটার ঠিক নিচের কিছু ফোটা দেখা যায়, পিচ ঢালা রাস্তায় পড়তে থাকা ফোটাগুলো দেখা যায়। তবে আমি এখন বৃষ্টি দেখতে চাচ্ছিনা। আমি চাচ্ছি বৃষ্টি শুনতে, বৃষ্টি শুঁকতে। বৃষ্টির দৃশ্য, গন্ধ, শব্দ, সবই উপভোগ করার জিনিস।

তাই মসজিদের 'গ্যালারিতে' বসে আমি চোখ বন্ধ করলাম….




বৃষ্টির রূপ সব জায়গায় এক না। নদীর তীর, বা গহীন বনের প্রাকৃতিক পরিবেশে বৃষ্টির চেহারা একরকম, আর ব্যস্ত শহরের রাস্তায় নামা বৃষ্টির সিনারি সম্পূর্ণ আরেকরকম। এখানে বৃষ্টির সাথে থাকে বৃষ্টিতে পড়া মানুষের মধ্যে নানান গোছের চরিত্র। পথচারীদের অধিকাংশ কোনো না কোনো দোকানের সামনে ফুটপাথের সরু অংশে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার দোকান বা মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়বে। দোকানে মানুষ আসলে দোকানদারের খুশি হবার কথা, তবে এদের দেখে মোটেই খুশি হয়না। কারণ এরা শুধুই টাইম পাস করবে, বৃষ্টি ভেজা হাতে এটা ওটা নেড়েচেড়ে দেখবে, দাম জিজ্ঞেস করবে, জুতার কাদা দিয়ে ফ্লোর নোংরা করবে। দোকানদারদের সম্ভবত ইচ্ছা করে এদের উপর একটা নির্দিষ্ট মূল্যের পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক করতে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে চাইলে কিছু কিনতে হবে, এমনি এমনি ঢোকা যাবে না।


যেসব শিশুদের ঠিকানা রাস্তা, বৃষ্টি বোধহয় তাদের জন্যই সবচেয়ে আনন্দের। এরা একেবারেই অকারণে একজন আরেকজনের পিছনে দৌড়াতে থাকবে, টানাটানি করবে, নিজেদেরই কোন একটা পিচ্চিকে টেনে ফেলে দেবে, জমে থাকা পানিতে লাফাবে। আর তাদের মুখে থাকবে একশোভাগ ভেজালমুক্ত এক ফালি হাসি। 

বৃষ্টি দেখার জন্য কিন্তু ওভারব্রিজগুলো দারুণ !

কিছু অতি সাবধানি লোক যারা বছরের ৩৬৫ দিনই ছাতা সাথে রাখে, তারা আজকে তৃপ্তির হাসি নিয়ে বুক ফুলিয়ে হেটে যাবে আটকে পড়া লোকদের সামনে দিয়ে। এছাড়া কিছু কবি, ভাবুক টাইপ ভার্সিটির ছাত্র জিন্সের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বিকারহীন ভাবে ভিজে ভিজে হাটবে। সব মানুষ বৃষ্টিতে ছাতা ছাড়া ভিজতে ভিজতে হাটবে, এটাই যেন জগতের স্বাভাবিক নিয়ম। এই শেষোক্ত দুই প্রজাতির উপর বাকিরা সবাই চরম বিরক্ত। সেটাই স্বাভাবিক।




প্রাকৃতিক পরিবেশে বৃষ্টিতেও অবশ্য অনেক চরিত্র থাকে, তবে তাদের এতো সহজে দেখা যায়না। দেখা গেলেও, তাদের অনুভূতি খুব কম মানুষই বোঝার ক্ষমতা রাখে। প্রকৃতির মাঝে বৃষ্টি উপভোগ করার সুযোগও আমার হয়েছে অনেক। মালয়েশিয়ায় পড়ালেখা জীবনে বেশ কিছু মাস পার করেছি যে হোস্টেলে, সেটা ক্যাম্পাসের একেবারে প্রান্তে। হোস্টেলের বারান্দায় দাঁড়ালে মনে হয় পাহাড়ি এলাকায় কোনো রিসোর্টে এসেছি। চোখের সামনে সবুজ আর সবুজ। বিল্ডিংয়ের দেয়াল ঘেষে শুরু ঘাসের সবুজ, তারপর বিস্ত্রিত পাম গাছের বন, আর তার ওপারে গাঢ় সবুজ জঙ্গলে মোড়া পাহাড়। আর মাথার উপর বিশাল আকাশ। এই আকাশটা যে এত বড়, এতো প্রশস্ত, এটা এই ক্যাম্পাসে না আসলে মনে হয় বুঝতাম না। এখানে বিল্ডিংগুলো এমনিতেই ছোটছোট, তাও আবার অনেক দূরে দূরে। তাই আকাশটা তার সমস্ত সুবিশাল সৌন্দর্য নিয়ে সবসময় দেখা যায়। উপরে না তাকালেও দেখা যায়। মেঘ না থাকলে এই আকাশ আশ্চর্য রকম ঝকঝকে একটা নীল, তার মধ্যে যখন সাদা মেঘগুলো ভাসে, চোখ সরানো যায়না। আর ধুলোবালি না থাকার কারণে কিনা জানিনা, ওখানে আকাশটাকে কেন যেন অনেক বেশি কাছে মনে হয়। যেন কয়েকতলা দালানের ছাদে উঠলেই ধরা যাবে।


নীল, সাদা, সবুজ

এই আকাশ মেঘে ভর্তি হতে, বৃষ্টি ঝরাতে কোনো সময় নেয় না এখানে। আর এই বৃষ্টির সময়টাই আমি সবচেয়ে এনজয় করতাম। হোস্টেলের ঐ বারান্দায় দাঁড়িয়ে কত যে বৃষ্টি দেখেছি তার হিসাব নেই। কখনো বৃষ্টি নামতো শান্তভাবে। এই বৃষ্টিতে গাছপালা আর পাহাড়গুলোকেও বেশ শান্ত আর শান্তিময় মনে হতো। পাখিদের দেখতাম পাতার ছায়ায় চুপচাপ বসে আছে। পাতা দিয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারছে না, বাঁচার চেষ্টাও করছে না। পরিচিত বানরগুলোও ভিজছে। দুষ্টু টাইপের পিচ্চি বানরগুলো সবসময়ই লাফায়, এই বৃষ্টি সেটা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে কয়েকটা বেশি ছোট বা ভীতু টাইপের বাচ্চা মায়ের বুক জাপটে ধরে ঝুলে থাকে। মানুষ আর বানর খুব লাকি প্রজাতি, এরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মাকে জাপটে ধরতে পারে।

তবে কখনো সেখানে বৃষ্টি নামতো প্রচন্ড একটা রূপ নিয়ে। সেটা হঠাৎ করে আসতো না। এই বৃষ্টির আগমনের অনেক প্রস্তুতি। নীল আকাশ আস্তে আস্তে কালো হতে থাকে। রাগী চেহারার মেঘগুলো জড়ো হতে থাকে স্তরে স্তরে। মেঘের লেয়ার যত বাড়ে, ততো আকাশ কালো হতে থাকে। কখনো একেবারে ভর দুপুরে আলো কমে যায় এতটাই, যে মনে হয় মাগরিব এর ওয়াক্তের একেবারে শেষ সময়। প্রস্তুতি চলে বাতাসেও, তবে সেটা আবার সবসময় এক রকম না। কখনো দমকা বাতাসে জানালাগুলো ভেঙে যেতে চায়, বারান্দায় শুকাতে দেয়া পাঞ্জাবীগুলো উড়ে ঢুকে পড়ে করিডোরে। আবার কখনো ঠিক উল্টো, বাতাস একেবারে থেমে যায়। গাছগুলো থম মেরে যায় ভয়ে। দুষ্টমতি বানর পিচ্চিগুলোকে জোর করে ধরে নিয়ে মায়েরা কোথায় যেন চলে গেছে। পাখিদেরও কোনো চিহ্ন নেই কোথাও। ওদের কি কোনো ইমার্জেন্সি শেল্টার আছে? আমাদের যেমন থাকে বন্যার সময়?

আকাশ ফেটে পড়ার অপেক্ষায়

এমন সময় ফোটা পড়া শুরু করে, এক দুই ফোটা করে। বাড়তে থাকে বৃষ্টি, বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে। বৃষ্টি বেড়ে কোন পর্যন্ত যেতে পারে, সে সম্পর্কে পূর্বের সব ধারণা ভেঙে দিয়ে বৃষ্টি আরো বাড়তে থাকে! পানির ধারা যেন ঘোলা কোনো পর্দা, আকাশ থেকে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে বাতাসের সাথে ভেসে আসে পানির ফোয়ারা। কোনো ছাতা, কোন ছাদ এই বৃষ্টি থেকে বাঁচাবে না। ভিজিয়েই ছাড়বে। এরকম প্রতাপশালী বৃষ্টি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়না, সেটা ভেবে থাকলেও ভুল হবে। বৃষ্টির ট্যাংকি যেন খালিই হয়না। ঘন্টার পর ঘন্টা চলতেই থাকে।

বৃষ্টি শেষেও চমকের শেষ নেই। আকাশ পরিষ্কার হতে হতেই, সামান্য দূরের ঐ পাহাড়ি বনে দেখা যায় আরেক আজব দৃশ্য। সবুজের ফাঁকে ফাঁকে, এখানে ওখানে মেঘের মতো ধোঁয়া উঠছে। আকাশ থেকে নামা পানি আবার দল বেঁধে আকাশে চলে যাচ্ছে। মুগ্ধ হয়ে দেখতাম বৃষ্টির আকাশে ফিরে যাওয়া।



আমি সবসময়ই শব্দের দ্বারা অনেক বেশি influenced হই। কর্কশ, বিকট আওয়াজ যেমন মেজাজ খারাপ করে দেয়, ঠিক তেমনি সুন্দর কোনো শব্দও মুহূর্তের মধ্যে আমার মন ভালো করে দিতে পারে। মনের উপর শব্দের ইফেক্টের এই বেপারটা বেশিরভাগ মানুষই ঠিক বুঝে না, অথবা পাত্তা দেয় না। আমার ধারণা ঢাকাবাসীরা বিশেষ করে শব্দের প্রভাব থেকে desensitized হয়ে গেছে ছোটবেলাতেই। শব্দ দূষণ আমাদের কানকে পঁচিয়ে দিয়েছে। তবে কোনো কারণে আমার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। সেকারণে সুবিধা অসুবিধা দুটাই হয়েছে। অসুবিধা হলো, বাসে উঠতে হয় অলমোস্ট প্রতিদিনই। সেখানে টিকে থাকার জন্য প্রায় সবসময়ই আমার কানে হেডফোন থাকে। আর সুবিধা? আমি প্রকৃতির শব্দ, বিশেষ করে বৃষ্টির শব্দ সম্মোহিতের মতো শুনতে পারি। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে শুধু দেখিইনা, চোখ বন্ধ করে শুনি পানির কুলকুল। গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে শুনি পাতার ঝিরঝির। প্রতিটা পাখির গান আলাদা করে ফেলি ওদের সম্মিলিত কোরাস থেকে। ঐযে বললাম বাসে বসে হেডফোন কানে দেই, কি চলে সেখানে? কখনো বৃষ্টির, কখনো লেকের পাড়ের, কখনো বনের ভেতরের ‘সুর’।

আর এই শব্দের দুনিয়ায় শহরের বৃষ্টি প্রকৃতির চেয়ে অনেক এগিয়ে, অন্তত আমার অভিজ্ঞতায়। হোস্টেল থেকে প্রাকৃতিক এলিমেন্টগুলো কিছুটা দূরে হওয়ায়, সেখানে বৃষ্টির শব্দে কেবল একটাই বাদ্য বাজতো, গাছের পাতায়, বা ঘাসের উপর ফোটা পড়ার শব্দ। কিন্তু শহরে বৃষ্টির সুরে instruments এর অভাব নেই! বৃষ্টির একটা বড় অংশ পড়ে পিচঢালা পথে, ঝিরঝির করে এক নাগারে। এটাই মূল Rhythm। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বড়লোকের গাড়ির মোটা গ্লাসে বৃষ্টি পড়ছে ভারী স্বরে, পড়-পড়, পড়-পড়...। টং দোকানের টিনের চাল বাজাচ্ছে টুং-টাং ধ্বনি, আবার চালের ফুটোর নিচে পেতে রাখা ফাঁটা বালতিতে পড়ছে টুপ-টাপ! রাস্তায় ফেলে রাখা সিগারেটের প্যাকেটটাও চুপ করে নেই, পট-পট  করছে। পাশের পাঁচতলা বাড়ির ছাদের পানি পাইপ দিয়ে ছের-ছের  টাইপের একটা শব্দ করে পড়ছে ফুটপাথের মাঝখানে। নদী না থাকলেও কুলকুল  শোনা যাচ্ছে, রাস্তা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ড্রেন থেকে!

আহা কি আনন্দ.....

এসব চরিত্রের নাটক দেখার জন্য, এতসব বাদ্যযন্ত্রের composition শুনার জন্য অবশ্য আমার মতো বেকার মানুষ লাগে। সবাই তো আর বেকার না! তবে একদিন হোস্টেলে আমার পাকিস্তানি রুমমেট আমাকে অবাক করে দিয়ে বললো, বৃষ্টির শব্দ শুনতে শহরেই বেশি মজা, অনেক রকম সাউন্ড পাওয়া যায়। আজব তো! আমার মতো তারমানে অনেকেই ভাবে? নিজেকে unique একজন, সবার থেকে আলাদা কিছু একটা ভাবতে যতই ভালো লাগুক, আসলে আমরা কেউই তা না। অনেকেই আছে আমার মতই, অথচ কেউই ঠিক আমি না! বেপারটা কিছুটা দুঃখজনক, এবং একই সাথে ইন্টারেস্টিং।




দেখুন অবস্থা! ছিলাম বসে সেই মসজিদের সিঁড়িতে, চলে গেলাম কত দূর-দূরান্তে, বৃষ্টির পিছে পিছে। এই বৃষ্টি জিনিসটাই এমন, সবসময় আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, মোহাবিষ্ট করে রাখে। আমি সময়, স্থান ভুলে যাই। Norms ভুলে যাই। সেদিনও ভুলে গিয়েছিলাম। তাই ১৫ মিনিট বসে থেকে বৃষ্টির মধ্যেই নেমে পড়েছিলাম রাস্তায়। দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবি পড়া হুজুর পিঠে ব্যাকপ্যাক নিয়ে রাস্তায় রাতের বৃষ্টিতে হাসি-হাসি মুখ করে ভিজছে, এই দৃশ্যটা অন্যদের কাছে কেমন লাগবে, সেটা ভাবার কথা মনে আসেনি। ১০-১৫ মিনিট পরে কাক ভেজা হয়ে সেদিন বাসে উঠেছিলাম, ১ ঘন্টার জ্যামে বাসে বসেই শুকিয়ে গেছি, তাই বাসার মানুষেরা টের পায়নি! বৃষ্টির এরকমই এক আশ্চর্য দখল আমার উপর।



আজকে এই ভর দুপুরে রোদটা একটু কম কম লাগছে। 
আকাশে কি তাহলে কিছু মেঘ আছে? 
বৃষ্টি নামবে নাকি??

Friday, February 24, 2017

চশমাটা খসে গেলে....

চশমা পড়ি সেই ছোট্ট বেলা থেকে। একেবারে ছোট বয়স থেকেই আমার চোখের সামনে দুটো কাচের টুকরো থাকে সবসময়, অন্তত জাগা অবস্থায়। ৫-৬ বছর বয়সে আমার সেই প্রথম চশমা-পড়া চেহারার বেশ কিছু ছবি আছে এখনো। আমি নাকি সেই চশমা আবার একটু পরপর নাক লম্বা করে, ভ্রূ উঁচু করে এডজাস্ট করতাম। সেটা নিয়ে এখনো প্রায়ই হাসাহাসি হয় বাসায়। সেই চশমাটা এখনো আছে আমার ড্রয়ারে। গোছাতে গিয়ে যখন মাঝে মাঝে হাতে আসে ওটা, কিছুক্ষনের জন্য থেমে যেতেই হয়, হাসি পায়। 

সেই যে চশমা ঝুললো চোখে......


চোখের পাওয়ার কমতে কমতে, আর চশমার পাওয়ার আর দাম বাড়তে বাড়তে এখন যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা রীতিমতো দুঃখজনক। বিশেষ করে বাম চোখটার অবস্থা এতই খারাপ যে এটা লেজার ট্রিটমেন্টের অযোগ্য বলে দিয়েছেন এক ডাক্তার। তবে সবসময় চশমা হাতের কাছে থাকে বলে, এটার অভাব বা আমার শোচনীয়তার পরিমানটা টের পাইনা খুব একটা। তবে যখন টের পাই, বেশ অসহায় লাগে।

এরকম একটা এক্সপেরিয়েন্স হয়েছিল সুন্দরবনে। সেটা ছিল আমাদের আহসানুল্লাহর ব্যাচের ফেয়ারওয়েল ট্রিপ, একশো জনের উপর ছাত্র ছাত্রী নিয়ে। প্রচন্ড exciting সেই ট্রিপ এর কাহিনী লিখেছিলাম আগে একবার। তো সেবার কটকা বীচে, দোস্তদের সাথে সাগরের পানি দাপাদাপিতে ব্যস্ত। খুব সম্ভবত অনিন্দ বললো, ঢেউ আসলে ঢেউয়ের নীচে মাথা দে, মজা লাগে। তাই নাকি? ট্রাই করে দেখা লাগে। মিডিয়াম সাইজের একটা ঢেউ আসতে দেখে ডুব দিলাম, মাথার উপরে ভেঙে পড়ল পানির টিলা। একটু পরেই আবার পানি সরে যেতে লাগলো যেদিক থেকে এসেছিলো সেদিকে।ভুল বলেনি, আসলেই মজা। পানির উপর মাথা উঠিয়ে চিন্তা করছি আবার একটা দেয়া লাগে, কিন্তু মনে হলো, কি যেন একটা সমস্যা আছে। Something's not right. বেপারটা বুঝলাম একটু পরেই। আমার চশমা নাই। ঢেউয়ে ভেসে গেছে! আর কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা বীচে উঠে আসলাম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কারণ চশমা ছাড়া আমি এতটাই কানা যে রীতিমতো আতঙ্ক কাজ করে। চশমার এক জোড়া স্পেয়ার ছাড়া কখনোই কোনো সফরে বের হয়নি, সেবারও না। তবে সেটা ছিল লঞ্চে, ব্যাগের ভেতর। স্টেইন্ড গ্লাসের ভেতর দিয়ে দেখার মতো বন্ধুদের শুধু ভৌতিক অবয়বগুলো দেখতে লাগলাম, পানিতে নেমে উদ্ভট কিসব যেন করছে। বেশ কিছু পরে লঞ্চে ফিরে আবার 'প্রাণ' ফিরে পেলাম চোখে।

কয়েকদিন আগে আবারো সেই অসহায়ত্বের একটা ছোট ডেমো পেলাম। কাহিনী যদিও সিম্পল। মিরপুরে IELTS ক্লাস নেয়া শেষে এশার নামাজ পড়বো মসজিদে। জামাত শেষ বেশ আগেই। ওযুর সময় আমি সবসময় চশমাটা ঝুলাই পিছন দিকে, মানে দুই কাঁধের মাঝে, জামার সাথে। ওযু শেষে চশমা পেছনে ঝুলিয়ে রেখেই মসজিদে ঢুকলাম। মসজিদের একেবারে সামনে কিছু লাইট ছাড়া বাকিগুলো অফ। পিছনে এক পাশে জুতা রাখার জন্য নিচু হতেই চশমাটা পরে গেল কার্পেটের উপর। ডার্ক লাল রঙের কার্পেট, তার উপর কালো কাজ করা। এদিকে আলো কম কিছুটা। মাথা নিচু করে খুঁজতে লাগলাম। কোনো চিহ্ন নেই। পা দুটোকে সেন্টারে রেখে মাথা ঝুকিয়ে বৃত্তাকারে ঘুরতে লাগলাম। No use. পেছনের কিছু মুসল্লি হা করে তামাশা দেখছে, হয়তো করুনা নিয়ে, হয়তো না। আত্মসম্মান তাও কিছু বাকি ছিল তখনো। কিন্তু কিছুতেই খুঁজে না পেয়ে শেষমেষ যখন হামাগুড়ি দিয়ে হাতড়াতে লাগলাম, তখন সেটাও আর বাকি থাকলো না। তবে বেশিক্ষন এই অপমানজনক পজিশনে থাকতে হলো না, হাতে এসে বাজলো আমার precious চশমা।

পুরো ঘটনাটা খুব অল্প সময়ের, আর তেমন একটা সিগনিফিক্যান্ট কিছুনা, তবুও আমার অনেক হাসি পেলো। বেশ কিছু অনুভূতি খেলে গেল মাথায় একসাথে। প্রথমেই মনে হলো, দুটো স্বচ্ছ কাঁচের টুকরোর উপর আমি কত ডিপেন্ডেন্ট! আর ভাবলাম, আমি তো তাও চশমা পরে ঠিকঠাক দেখি, কত মানুষের তো সেই সুযোগও নেই! 

আর সেই সাথে ভাবলাম, আল্লাহ চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই আমাদের সম্মানিত করতে পারেন, আবার সাথে সাথেই ছোট করতে পারেন। এই একটু আগেই ক্লাস ভর্তি ছাত্রের সামনে আমার কত পার্ট। আমি খুব ভালো ভাব নিতে পারি, ক্লাসে সেই যোগ্যতার পূর্ণ ব্যবহার করি, ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই তাই বয়সে সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও বেশ রেসপেক্ট করে। অথচ তার একটু পরেই, আল্লাহ আমাকে মসজিদের মেঝেতে গাধার মতো চার হাতপায়ে একটু ঘুরিয়ে নিলেন। কোথায় গেল ক্লাসের ঐ স্মার্ট আসিফ স্যার? 

আসলে আমাদের অহংকারের কিছুই নেই। নিজেদের অবস্থার উপরে বিন্দুমাত্র নিয়ন্ত্রণ আমাদের নেই। সর্বাবস্থায় আমরা আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। সেটাই আল্লাহ মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেন। মনে যে করিয়ে দেন সেটাতেও আল্লাহরই শুকরিয়া, উনি তার মানে ভাবছেন আমার কথা? আর তাঁর মনে পড়ানোতেও যে আমাদের মনে পড়বে তাঁর কথা, সেটাও তাঁর ইচ্ছায়। কত মানুষ আল্লাহর দেখানো বড় বড় ইঙ্গিতেও অন্ধ থেকে যায়। আল্লাহ যে আমাকে বাইরের এবং ভেতরের চোখে পুরো অন্ধ করেননি, তাই শুকরিয়া। আল্লাহ আমাদের দৃষ্টিকে আরো স্পষ্ট করে দিন। আমীন।

Saturday, August 13, 2016

নূরের শহরে (১) - প্রথম নিঃশাস


কয়েক ঘণ্টা তো হয়ে গেল প্লেন ছেড়েছে। কোন শহরের উপরে এখন আমরা? গন্তব্যের দেশটার সীমানা ভেদ করেছি, সেটা জানি, আর গন্তব্য শহরের বেশ কাছাকাছিই আছি, সেটাও বলে দিচ্ছে আমার সামনের স্ক্রীনের লাইভ ম্যাপ। এয়ার ট্র্যাভেলে এই চ্যানেলটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।
 


একটু পর পর তাকাচ্ছি আমার পাশের জানালা দিয়ে। নাহ, নিচে এখনও ঘোর অন্ধকার। আসেনি এখনও সেই শহর...
 


কিছুক্ষণ পর, বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ল আলো, কালোর মাঝে অসংখ্য বৈদ্যুতিক আলো। সামনের ডিসপ্লেতে চোখ বুলালাম। এই তো! অপেক্ষার পালা শেষ। আমার নিচেই এখন সেই নূরের শহর, আমার স্বপ্নের শহর, শান্তির শহর......
 


এই শহর যখন প্রথম চোখে পড়বে, তখন পড়বার জন্য বিশেষ একটি দুআই আছে! অনেকক্ষণ ধরে প্র্যাকটিসও করে রেখেছি। জানালায় মাথা ঠেকিয়ে, চোখ বড় করে তাকিয়ে পড়তে শুরু করলাম......



ও আল্লাহ ! এইতো তোমার নবীর শহর ! একে আমার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার, শাস্তি আর খারাপ হিসাব থেকে নিরাপত্তার মাধ্যম বানিয়ে দাও ! (ভাবার্থ)

কি আশ্চর্য দুআ! আমাদের ঈমান, আমল, তওবা, কান্নাকাটি, সব তো জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্যে। দুনিয়ার জীবনের সফলতাই বলা হয়েছে জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে যাওয়াকে। জাহান্নাম থেকে কাঙ্খিত সেই মুক্তি চাওয়া হচ্ছে কিসের দোহাই দিয়ে? একটা শহরের দোহাই দিয়ে! কি আজব এই শহর! আল্লাহর কাছে কতই না প্রিয়, কতই না দামি। কি আছে এই শহরে? অন্য সব নগরের মতোই তো, আছে রাস্তা-ঘাট, অলি-গলি; চলছে গাড়ি, ব্যস্ত মানুষ ছুটছে; আছে ধুলা-বালি, আছে সবুজ; আছে ট্র্যাফিক সিগনালে বসে থাকা; আছে বিভিন্ন স্তরের মানুষ, আর তাদের বিভিন্ন স্তরের বাড়ি; আছে বিশাল শপিং মল, আবার রাস্তার পাশে বিছানো চাদরের উপর জামা কাপড়ের দোকান, যেখানে জামাগুলো ঠিক ভাঁজ করে রাখা হয়না। আপনার আমার সবার শহরেই তো থাকে এগুলো। তাহলে কি আছে এই শহরে যা অন্য কোথাও নেই? 
 
 
 
হ্যা, এই শহরে যে আছেন আল্লাহ'র প্রিয়, সারা সৃষ্টির সেরা মানুষটি! প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর তাঁর সাথে এখানেই তো শুয়ে আছেন তাঁর কত শত প্রিয় সাথীরা! রাদিয়াল্লাহু আনহুম! এই শহরে যা আছে, তা আর কোথাও নেই। আর তাই তো এই শহরের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে বায়না ধরা যায়! মুক্তি চাওয়া যায় আগুন থেকে, শাস্তি থেকে! যেই মানুষগুলোর কারণে এই শহরের এতো দাম, না জানি সেই মানুষগুলোর কত দাম! না জানি তাঁদের জীবনের কত দাম। আর তাঁদের ভালোবেসে, তাদের পথে হাঁটতে চেষ্টা করলে, আমরাও না জানি কতই না দামি হবো আল্লাহ'র কাছে! সেটা যদি বুঝতাম, তাহলে আর এই পথে হোঁচট খাওয়ার ভয় পেতাম না, কারও বাঁকা কথায় দমে যেতাম না।

তুমিই তো নিয়ে গিয়েছিলে আমাকে ......


আমি খুব এনজয় করি যখন প্লেন থেকে যাত্রীদের নামানো হয় টারম্যাকে, অর্থাৎ এয়ার পোর্টের বাইরে, খোলা আকাশের নিচে। প্লেনের দরজার সাথে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এর পাইপের মতো টানেল দিয়ে বিল্ডিয়ে ঢুকিয়ে দিলে ভালো লাগে না। এবার সেরকম হলো না। যাত্রী নামানো হচ্ছে রাতের তারা ঝলমলে আকাশের নিচে, আমাদের নেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে বাস। বাবা মা আর আমার ছোট ফুপার সাথে সফর (তিন ডাক্তারের সাথে এক রোগী), আমরা বের হবো সবার শেষে। বাবার আস্তে ধীরে বের হওয়া পছন্দ। তাড়াহুড়া কিসের? (যদিও মা'কে নিয়ে বাসা থেকে কোথাও বের হতে গেলে সব সময় মা'কে তাড়ার উপর রাখে।) সবাই বের হয়ে গেল একে একে। বাবা বের হল প্লেনের দরজা দিয়ে, সাথে ফুপা, তারপর মা, তারপর আমি.......
 
 
প্লেনের দরজার ঠিক বাইরে, সিঁড়ির ধাপগুলো শুরু হবার আগে ছোট প্লাটফর্মটায় দাঁড়ালাম। পানি জমা চোখের ঝাপসা দৃষ্টিতে চারপাশে তাকালাম, আর অনেক জোরে একটা শ্বাস নিলাম। আমার ফুসফুসে ঢুকে গেলো মদীনার বাতাস, মদীনার ধূলিকণা! আমার শরীরের ভেতরে এখন মদীনার কিছু অংশ! গলা ধরে ছিল, চোখ ভিজে ছিল আগে থেকেই, এবার আর বাকিটা চেপে রাখতে পারলাম না। কাঁদতে লাগলাম ফুঁপিয়ে। এক পা এক পা করে নামছি সিঁড়ি দিয়ে, আর চোখ দিয়ে পানি পড়ে যাচ্ছে। বাবা চলে গেছে প্রায় বাসের কাছে, তবে পেছনে ফিরে মা দেখলো আমাকে কাঁদতে। হাত ধরে কি যেন বলছিলো, মনে নেই এখন। তবে কান্নার মধ্যে দিয়ে আমার মুখ দিয়ে শুধু একটা কথাই বের হলো, মা'র হাত ধরে... 
 
 
'আমি এখান থেকে যেতে চাই না.....'
 
 
খুবই আশ্চর্য ব্যাপার তাই না? মাত্র তো আসলাম, এখনো নামিইনি পুরোপুরি বিমান থেকে। এখনই কেন যাওয়ার কথা মনে হলো আমার? কেন 'ছেড়ে যেতে হবে', এই কষ্টে বুকটা মোচড় দিচ্ছে মদীনায় পা ফেলার আগেই? আসলে এই শহরটা এমনই। যে এই শহরে আসবে, মনের মধ্যে কিছুটা হলেও আল্লাহ'র মহব্বত নিয়ে, আল্লাহ'র নবী'র প্রেম নিয়ে, সে চাইবে এই শহরের মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকতে। মানুষ যখন কোনো কিছুকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলে, মনে হয় সেটা নিয়ে এই অনুভূতিটা তার পিছু ছাড়েনা, প্রথম থেকেই। আমারও সেটাই হলো। আগমনের আনন্দ ছাপিয়ে, শ্বাসরোধ করে ধরলো 'আর মাত্র পাঁচ দিন পর ছেড়ে যেতে হবে', এই বেদনা। আশ্চর্য, খুবই আশ্চর্য। 

Wednesday, March 30, 2016

লালাখালে এক একলা পথিক



সিলেটে এই নিয়ে ৪র্থ বার আসা, আর প্রতিটা সফরই রীতিমত unique! প্রথমবার, সেই কত বছর আগে! সেবারই প্রথম ট্যুর এর মজা' স্বাদ পেয়েছিলাম মজাটা আরও অনেক বেশি হয়েছিল কারণ ফ্যামিলির আমরা জন ছাড়াও সেবার সাথে ছিল আমাদের প্রিয় দাদি, আরও ছিল আমার cousin লাকি আপু সেই ট্রিপের খুব বেশি কিছু মনে না থাকলেও, সেই ট্রেন এর যাত্রাটা খুব মনে পরে আরেকটা দৃশ্য ভেসে ওঠে ঝাপসাভাবে পাহাড়ের উপরে, সবুজের মাঝখানে একটা বাংলো, চারপাশের ঘাসে ঢাকা চত্বরটা ফুলের গাছে ঘেরা কিনারে গিয়ে ফুলের ঝোপ দুই হাতে সরাতেই...।। সুবহানাল্লাহ! নিচে বহদুর পর্যন্ত ঢেউ খেলে নেমে গেছে চা-পাতায় ঢাকা এক সাগর! এরকম দৃশ্য সেই প্রথম ঘুরে বেরানোর প্রতি আমার constant আকর্ষণটা মনে হয় তখন থেকেই শুরু

Tuesday, February 09, 2016

[Photo Post] Her Majesty

My then room-mate Murad had just come back from a short trip, and he was pretty damn excited. He knew I was a travel and photography buff, so he couldn't wait to show me the shots. He was going through his camera roll on his laptop, and I could see why. Their trip to Gunung Ledang (Mount Ophir) was truly scenic from the moment they hit the roads outside the city. But when finally he showed my the shot of the waterfall, I was stunned. He tried to move the slideshow along but I wouldn't let him. For the next few minutes, I just kept watching the shot, and my mind already knew that I have to be there. Soon. My thirst for traveling and love for photography both had to be drenched in those waters.

So a few weeks a later when me and some pals set out for our unforgettable road trip across Malaysia, I had to put Gunung Ledang as our first stop.

As we entered the park area, I was a bit concerned to be fair. My buddies also started looking at me questioningly, 'where the hell did you bring us?'. Quite rightfully so, because the place looked miserable. It was dirty, highly overcrowded and noisy. Unlike most of the tourist spots I've been in Malaysia, this place seemed utterly out of any apparent maintenance. But I believed the place had more to offer. The water cascaded down from above, forming several pools for the visitors to enjoy. The lower pools were all pretty crowded and filthy. With the image I've seen on my roommate's PC in the back of my mind, I pushed my buddies upwards along these congested lower pools.

As we climber higher, the number of people, and the amount of litter along with it, started to drop dramatically. Soon we started enjoying the surrounding forest, the rocks beneath our feet, the jagged rudimentary steps. Undisturbed nature embraced us through all our senses. Our path led us slightly away from the water stream, and the presence of it remained with us only through the constant rhythm of the water flow, somewhere on the other side of the wall of green. After some time, we emerged from a clearing of trees into the wet rocky bank of the water, and the scene I've been waiting for was right there in front of my eyes.

As we waded into the water of this nearly unpopulated upper pool, our eyes were transfixed on the gorgeous arrangement of rocks, greens and milky white water right ahead. All I could do for several minutes was simply sit on a rock and watch. SubhanAllah! I'm not gonna try and describe the place any further, because I won't be able to. It takes writers of great abilities to put words to that kind of beauty. After a few minutes, I started to make arrangements to take the shots I wanted to take ever since I saw those photos of this place. My gear was nothing to be excited about. I had my uncles good ol' D40 with me, and I had borrowed a pretty decent tripod from another senior bro from the university. I set down the tripod on the soft sand bed beneath the knee deep water. So on borrowed gear and borrowed time with limited expertise, I started shooting.

Keeping in mind the limitations of my gear and abilities, I wasn't really expecting any masterpiece. But nonetheless when I started editing the shots later on, I was pretty delighted with my results.



Do I dream of going back there again? Do you need to ask?

Monday, February 01, 2016

[Photo Post] A Walk On The Leaves

It was a long drive to Pahang, around 8 hours I guess. With my friend Titash driving all night and me riding shotgun keeping tabs with the GPS, the drive was enjoyable for the major part. From brightly lit highways to dark swerving roads, it gave me a pretty good experience of night-time drives. Towards dawn I was seriously nodding off, going back and forth between dream and reality. After praying Fajr at a mosque in Jerantut, about an hour away from the National Park in Pahang, we had no choice but to take a nap right there. Then after a quick breakfast, we started again. And it began to get a bit tight. We were running out of gas, we didn't know if we'd find a gas station. We were running out of cash, not knowing if we'd find an ATM any time soon. But nonetheless we kept going, hoping the fuel and cash both will last this turn.

And all of this trouble was to visit the National Park in Pahang. More specifically, to experience the canopy walkway. High near the treetops of this ancient tropical rain forest, which is one of the oldest in the world, ropes tied from one colossal tree bark to another are used to hang narrow planks of wood, with nets on both sides of course.

 National Park,Pahang.