Friday, August 11, 2017

নূরের শহরে (৩) - আল্লাহর দুই বান্দা

মাসজিদুল হারাম আর মাসজিদে নববী। আল্লাহর আশিক যারা, আল্লাহর সন্তুষ্টি যারা খুঁজে ফেরেন, আল্লাহর হুকুমের যারা পাবন্দ, নবীর সুন্নাতের যারা অনুসারী; আল্লাহর প্রতি, আল্লাহর প্রিয় নবীর প্রতি ভালোবাসা যাদের অন্তরে বদ্ধমূল, পৃথিবীর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমন বান্দারা প্রতিনিয়ত ছুটে আসেন এই পবিত্র জমিনে। এই দুই শহরের আলো বাতাসে, এই দুই মাসজিদের ছায়ায় আসতে না পারলে তাদের যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। অনেক বোকারা ভাবে, হজ্ব তো ফরজ একেবারই, এতবার যাওয়ার কি আছে? যিয়ারতের জন্য তো একদিনই যথেষ্ট, এতদিন মদিনায় কি দরকার? যাদের অন্তরে আল্লাহর মহব্বত নেই, যাদের কাছে ইসলাম মানে শুধুই কিছু নিয়মতান্ত্রিক কাজ, যেগুলো নিতান্ত বাধ্য হয়ে করতে হয়, তারা কী বুঝবে কাবার দিকে তাকিয়ে থাকার আনন্দ? যাদের কাছে নবীজি কেবলই একজন বার্তা বাহক, যাদের অন্তরে নেই আমাদের প্রিয় নবীর ভালোবাসা, নেই তাঁকে দেখার তামান্না, তারা কী বুঝবে যিয়ারতের জন্য ধীর পায়ে হেটে যাওয়ার সময় মনের অবস্থা? তাদের দিলে এসবের কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু যাদের দিলকে আল্লাহ তাঁর নিজ রহমতে সজীব রেখেছেন, সেখানে ঢেলেছেন তাঁর মহব্বত, তাঁর হাবিবের মহব্বত, তারা তো এখানে আসবেই! বার বার আসবে। তাই এই পবিত্র দুই আঙিনায় খুঁজে পাওয়া যায় আল্লাহর এসব প্রেমিকদের। যদি কেউ খুঁজতে চায়।

সেরকমই এক বান্দার দেখা পেয়ে গেলাম প্রথম দিনই। মাগরিবের নামাজের জন্য মাকে পৌঁছে দিয়েছি মহিলাদের নামাজের অংশে। আমি আর বাবা চলে এসেছি মসজিদের বেশ ভেতরের দিকে। মাগরিব আর এশার মধ্যে গ্যাপটা খুব বেশি না, তাই মাগরিব পরে মসজিদেই আমলে বসে থাকলাম। বাবার জন্য লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকা, বা মেঝেতে বসে থাকাও কষ্টকর। উনি বসে আছেন চেয়ারে, কুরআন তিলাওয়াতে ব্যস্ত। আমি বাবার পেছনেই বসে আছি, মাঝে মাঝে হাটাহাটি করছি। এমন সময় চোখ গেলো আমাদের থেকে কয়েক কাতার সামনের দিকে। হুইলচেয়ারে বসে আছেন একজন বয়স্ক লোক। একটু সামনে এগিয়ে ভালো করে দেখলাম। সাদা ধবধবে আপদমস্তক। মাথায় সাধারণ পাঁচ-কলি টুপি, গায়ে সাদা সুন্নতি লেবাস। পায়ের সালোয়ার 'নিসফে সাক' অর্থাৎ হাটু আর গোড়ালির মাঝ বরাবর। পুরোটাই ধবধবে সাদা। আর এমন উজ্জ্বলতা কখনও কি দেখেছি কারও চেহারায়? লালচে ফর্সা চেহারাটা ঢেকে আছে মুখভর্তি সাদা দাঁড়িতে। অসম্ভব সুন্দর, শান্ত সেই মুখ। মানুষটাকে দেখা মাত্রই একটা কথাই মনে হলো, ইনি আল্লাহর এক প্রিয় বান্দা। উনার সাথে আমাকে দেখা করতেই হবে। আজব একটা আকর্ষণ আমাকে টেনে নিয়ে গেলো সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষটার দিকে।

উনার আশেপাশে দেখলাম সুন্নতি লেবাসে কয়েকজন বসে আছেন, স্পষ্টতই তারা আমাদের আশেপাশের কোনো দেশের, এবং ওই মুরব্বির মুরিদ। পেছনে বসে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করলাম,

- উনি কি আপনাদের শায়খ?
- জি
- উনার পরিচয় ?
- উনি তো ফিরোজ মেমন সাহেব, হাকিম আখতার (র) এর খলিফা।

সুবহানাল্লাহ! ফিরোজ মেমন সাহেবের নাম তো আমি শুনেছি আগেই। আর পাকিস্তানের হজরত হাকিম মুহাম্মদ আখতার সাহেব (র) এর নাম না জানা কি সম্ভব? এখন তো তার সাথে হাত না মিলিয়ে যেতে পারবো না!

- আমি উনার সাথে মুসাফাহা করতে পারি ?
- অবশ্যই, কেন নয় ?

পেছন থেকে এগিয়ে গিয়ে হজরতের সামনে গিয়ে বসলাম, সালাম দিয়ে মুসাফাহা করলাম। অসম্ভব আন্তরিক একটা হাসি দিয়ে তার নরম হাতের মধ্যে নিয়ে নিলেন আমার হাত। কি প্রশান্তি ছিল উনার সেই হাসিতে, সেই মুসাফাহায়! হযরতকে পরিচয় দিলাম, বললাম আমার বাবা মায়ের সাথে এসেছি বাংলাদেশ থেকে। খুব খুশি হলেন। সেই সাথে ঢাকার কোনো একজন বড় আলেমের নাম বললেন, এখন মনে নেই, যার সাথে উনার খুব ভালো ইসলাহী সম্পর্ক। হজরতের কাছে দুআ চেয়ে ফিরে আসলাম আগের জায়গায়। এসেই বাবাকে বললাম, ঐ যে উনি একজন আল্লাহওয়ালা, পাকিস্তানের বুজুর্গ ব্যাক্তি। উনার এপিয়ারেন্স বাবাকেও মুগ্ধ করেছিল। বাবা বললো, চল সালাম দিয়ে আসি। বাবাকে নিয়ে গেলাম হজরতের কাছে। সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই হজরত তার হুইলচেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বাবার সাথে মুসাফাহা করলেন, শরীর-স্বাস্থ্যের খবর নিলেন, বিনয়ের সাথে। দুই মুরব্বির হাসিমাখা মিলনের দৃশ্যটা খুবই সুন্দর ছিল। একটু পরে বাবা বললেন, এটা আমার ছেলে, কিছুদিন পর ওর বিয়ে ইনশাআল্লাহ, ওদের জন্য বিশেষ দুআ চাই। হজরত খুশি হয়ে আমার দিকে ফিরলেন, দুআ করলেন। সুবহানাল্লাহ! যার বিয়ে তার নিজের তো খবর ছিল না এব্যাপারে দুআ চাইতে, অথচ বাবার মাথায় ঠিকই ছিল। আসলে বাবা-মায়েরা এমনই হয়। ছেলে মেয়েদের ভালো থাকা, খুশি থাকা নিয়ে চিন্তা তাদের মাথা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যায় না।

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا


-----------------------------------------------------------------------------------------------------

আল্লাহর আরেক আশেক বান্দা, দ্বীনের এক একনিষ্ট খাদেম, আমার অসম্ভব প্রিয় এক ব্যক্তিত্বের সাথেও আল্লাহ মিলিয়ে দিয়েছিলেন তার পরের দিনই। যোহরের নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হচ্ছি। হোটেলে ফিরে যাবো, আমাদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। কোন দরজা দিয়ে বের হচ্ছিলাম সেটা এখন মনে নেই। গেটের বেশ কিছু দূর থেকেই গেটের কাছে কয়েকজন মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম, কথা বলছেন। এতদূর থেকে চেহারা স্পষ্ট না দেখা গেলেও, একজনের অবয়ব পরিচিত মনে হলো। হ্যা সেরকমই তো পোশাক, চোখে চশমা, দাড়িও সেরকম হালকা লালচে। মাঝারি গড়নের, যেমনটা দেখেছিলাম আগে একবার। উনি কি তবে.......???

Bucket List এর সাথে পরিচিত আছেন? জীবনে আপনি কি কি করতে চান, মৃত্যুর আগে? পৃথিবীর কোন কোন সৌন্দর্য আপনি ঘুরে দেখতে চান? কি ধরণের adventurous কাজ করতে চান, অন্তত একবার হলেও? এরকম টার্গেটের লিস্টকে Bucket List বলে। আমার এরকম একটা লিস্ট আছে। জীবনে অন্তত একবার হলেও, যেসব মানুষের সাথে আমি সাক্ষাৎ করতে চাই, কথা বলতে চাই, এরকম মানুষদের একটা লিস্ট। এই লিস্টে আছেন এমন কিছু মানুষ, যাদের influence আমার জীবনে অনেক। যাদের লেখনী, যাদের লেকচার আমার নিজের মানসিকতা গঠনে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আমার দ্বীনী understanding, দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে আমার concept, অর্থাৎ বুঝ-সমঝের ক্ষেত্রে এসব মানুষের অবদান অনেক। দ্বীন মানা এক জিনিস, আর দ্বীনের বুঝ অন্য জিনিস। আর এই দ্বিতীয়টার গুরুত্ব অনেক বেশি। যেসব দ্বীনি ব্যক্তিদের কথা, লেখা আমাকে শিখিয়েছে কুরআনের শিক্ষা, হাদিসের শিক্ষা, তাদের কাছে আমি চির ঋণী। আর উনাদের তালিকায় একেবারে প্রথম দিকেই যার নাম, তিনি মুফতি ত্বকী উসমানী।

বর্তমান সময়ে যারা দ্বীনের উপরে কিছুটা হলেও চলার চেষ্টা করছেন, শেখার চেষ্টা করছেন, তাদের মধ্যে মুফতি ত্বকী সাহেবকে চেনেনা এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। উনার কেবল পরিচয় তুলে ধরতেও কয়েক পৃষ্ঠা লেগে যাবে। দ্বীনের কোন শাখায় নেই উনার কন্ট্রিবিউশন? একদিকে উনি ফিকহ এবং হাদিসের অনেক বড় উস্তাদ, পড়াচ্ছেন দারুল উলুম করাচিতে। ইসলামী অর্থনীতিতে তিনি সারা পৃথিবীতে একজন লিডিং রিসার্চার। উনার সম্মানিত পিতাও ছিলেন সারা দুনিয়ায় সুপরিচিত একজন আলেমে দ্বীন, মুফতি শফি উসমানী (র)। বাপকা বেটা যাকে বলে। মুফতি ত্বকী সাহেব হাদিসের সনদ পেয়েছেন যাদের থেকে তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন শায়খ যাকারিয়া (র), মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী (র), ক্বারী তৈয়ব সাহেব (র) এবং মাওলানা সলিমুল্লাহ খান (র)। এখানেই শেষ না। তাজকিয়ার মেহনতেও আছেন প্রথম সারিতে। হাকীমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানভী (র)-এর দুজন বিশিষ্ট খলিফা ড. আব্দুল হাই আরিফী (র) এবং মাওলানা মাসীহুল্লাহ খান (র) এর খেদমতে থেকে সুলূকের পথে হেঁটেছেন। দুজনের থেকেই খিলাফত লাভ করে আত্মশুদ্ধির পথ দেখাচ্ছেন অগণিত মুসলিমদের, যারা উনার হাতে বায়আত হয়েছেন। এসব দ্বীনি ব্যস্ততা সত্ত্বেও আইনে পড়াশোনা করেছেন, পাকিস্তানে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন! এছাড়া লিখেছেন আশিটিরও অধিক দ্বীনি কিতাব; উর্দু, ইংরেজি এবং আরবি ভাষায়। সুবহানাল্লাহ! একেই বলে বরকত। আমার দ্বীনি বুঝ-সমঝ গঠনে উনার বয়ান, লিখিত বই এবং প্রবন্ধের ভূমিকা অনেক বেশি। কয়েক বছর আগে উনার একটা বয়ান সরাসরি সামনে বসে শুনার তৌফিক হয়েছিল ঢাকায়। অল্প সময়ের সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো এখনো গেথে আছে আমার মন-মস্তিষ্কে, আশা করি থাকবে সারা জীবন। তবে সেবার উনার সাথে দেখা করার সুযোগ হয়নি, তাই একটা আফসোস ছিল মনে মনে।

গেটের আরেকটু কাছে যেতেই আর সন্দেহ থাকলো না। দাঁড়িয়ে আছেন মুফতি ত্বকী উসমানী সাহেব! সাথে আরো দুই জন। অনেকটা মন্ত্র মুগ্ধের মতো এগিয়ে গেলাম তাদের দিকে। হজরত খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কথা বলছিলেন বাকিদের সাথে, চেহারার এক্সপ্রেশন খুবই সিরিয়াস। তারপরও সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, সালাম দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলাম। দুহাতে মুসাফাহা করলেন হজরত, সালামের উত্তর দিলেন। ইচ্ছা হচ্ছিলো কিছু কথা বলতে, দুআ চাইতে, কিন্তু আমি ঢুকে পড়েছি তাদের conversation এর মধ্যে, তাও বেশ সিরিয়াস বিষয়ে নিশ্চয়ই। তাই আর দেরি করলাম না, প্রচন্ড অনিচ্ছা সত্ত্বেও উনাদের ছেড়ে এগিয়ে গেলাম সামনের দিকে। আল্লাহর দেয়া হঠাৎ এই সুযোগ বিশ্বাস করতেও সময় লাগলো কিছুক্ষণ। আমি আসলেই মুফতি ত্বকী সাহেবের সাথে হাত মেলালাম? আলহামদুলিল্লাহ। সেই সাথে আবার আফসোসও হলো, এতো কাছে এলাম, মুসাফাহা হলো, কিন্তু কথা হলো না, দুআ চাওয়া হলো না? মিশ্র একটা অনুভূতি নিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।

কাহিনী এখানেই শেষ হলেও সেটা হতো অন্যতম স্মরণীয় একটা ঘটনা। তবে এই গল্পের ২য় পর্ব যে এখনো বাকি, সেটা আমি কিভাবে জানবো?

এশার নামাজ পড়লাম মসজিদের পুরোনো অংশে, অর্থাৎ একেবারে সামনের দিকে। বাবুল সালাম থেকে বাবে বাকি'র দিকে যিয়ারতের যে রাস্তা, তার ঠিক পেছনে সারি সারি শেলফ আছে সোনালী রঙের, কোরআনের মুসহাফ রাখা। এরকমই একটা শেলফের পেছনে এশা পড়লাম। জামাত শেষ হলো, সুন্নতের জন্য দাঁড়ালাম একটু দেরি করেই। তখন জায়গায়টায় মুসল্লিদের চাপ কমে গেছে অলরেডি। আমার দুপাশে কেউ নেই। বিতর নামাজ পড়ছি, ঠিক পাশেই একজন এসে দাঁড়ালেন নামাজে। ভদ্রলোক যখন রুকুতে গেলেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার এপিয়ারেন্সের দিকে নজর গেলো। কি ব্যাপার? মনে তো হচ্ছে ...... । সালাম ফিরিয়ে ঝট করে পাশে তাকালাম। হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। আমার ঠিক পাশে নামাজ আদায় করছেন শায়খ ত্বকী উসমানী! এতটা সৌভাগ্য আমার কপালে কিভাবে জুটলো? এতো বড় মসজিদে নামাজ পড়ার জায়গার কোনো অভাব নেই। আমার প্রিয় মানুষটা এসে দাঁড়ালেন ঠিক আমারই পাশে?

হজরতের নামাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করলাম। উনার ব্যাপারে একটা কথা আগেই শুনেছি কার কাছে যেন। মা'মুলাত অর্থাৎ নিয়মিত আমলের ব্যাপারে উনি এতটাই punctual, যেন আমলটা তখন না করলে আর করাই হবে না। আমলের দিকে এমনভাবে ছোটেন, যেন ট্রেন ছুটে যাচ্ছে। ব্যাপারটা এবার দেখতে পেলাম স্বচক্ষে। নামাজের সালাম ফেরানোর সাথে সাথেই এক হাত বাড়িয়ে দিলেন সামনের শেলফে, কোরআন হাতে নিয়ে পাতা ওল্টাতে লাগলেন। এবার আমাকে একটু স্বার্থপর হতেই হলো। ভাবলাম যা করার উনি তিলাওয়াত শুরু করার আগেই করতে হবে। সালাম দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলাম। নিজের পরিচয় দিলাম, বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে হজরত খুশি হলেন। এরপর দুআ চাইলাম। দুটো স্পেশাল দুআ চাইলাম, হজরত আমিন বললেন! সেই সাথে হজরত নিজে থেকেই আরও কিছু দুআ করতে লাগলেন। হাসি হাসি মুখে কি দুআ করছিলেন হজরত, আমি ভালো করে শুনতে পাইনি, খুশির একটা ঘোরের মধ্যে কেবল বলে যাচ্ছিলাম, আমিন! আমিন! আমিন! দুআ শেষ করেই হজরত হাতে থাকা কোরআন খুলে বসলেন, ট্রেনটা ছুটেই যায় কিনা। এবার আর বিরক্ত করাটা ঠিক হবে না ভেবে উঠে এলাম। যাওয়ার পথে ফিরে ফিরে দেখছিলাম শায়খকে, চোখে তখনও অবিশ্বাস। এরকম একজন মানুষের সাথে দেখা হবার, দুআ চাওয়ার সুযোগ কিভাবে পেলাম? মসজিদের এতো দরজা থাকতে, আমরা কিভাবে একই গেটে একত্রিত হলাম দুপুরে? আবার ঐদিনই এশার পরেই, এই সুবিশাল মসজিদের এতো জায়গা থাকতে, কিভাবে ঠিক পাশাপাশিই আল্লাহ দাঁড় করালেন আমাদের? আল্লাহ তাআলা যেন বুঝিয়ে দিলেন, আল্লাহ যদি দিতে চান, তিনি কারও যোগ্যতার পরোয়া করেন না। যোগ্যতা ছাড়াও তিনি দেন, চাইলেই দেন। আবার কখনো না চাইতেও দেন। আল্লাহর রহমতের কাছে কিছুই অসম্ভব নয়। আমার মতো অলস, অযোগ্য, অপদার্থ বান্দাকেও আল্লাহ এতটা ভালোবাসতে পারেন, কাছে টানতে পারেন, উপহার দিয়ে ভরিয়ে দিতে পারেন! কিভাবে করবো এর শুকরিয়া? কিভাবে আল্লাহকে জানাবো কৃতজ্ঞতা? ভাষা নেই। শুধু সেই শব্দগুলো ছাড়া, যা তিনিই শিখিয়েছেন তাঁর বান্দাদের.....

الْحَمْدُ لِلَّـهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ


---------------------------------------------------------------------------------------------------